কৈলাশনাথ মন্দির, কাঞ্চীপুরম Kailasnath Temple, Kanchipuram

চেন্নাই থেকে 73 km উত্তরে প্রাচীন শহর কাঞ্চীপুরম। মেগা সিটি চেন্নাই এর পাশে কাঞ্চীপুরম এর জৌলুস অনেকটাই ম্লান।কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, একসময় তামিল সঙ্গম এর মাথার মণি ছিল কাঞ্চী। পল্লব রাজা দের আমলে গৌরবের চূড়ায় ওঠে এই নগরী।

পল্লব রাজাদের মধ্যে প্রথিতযশা, মহারাজ দ্বিতীয় নরসিংহ বর্মন নির্মাণ করান বিখ্যাত কৈলাসনাথ মন্দির টির। সেটা সপ্তম শতকের গোধূলি বেলা। 58 টি ছোট ছোট শিব মণ্ডপ আর তাদের মাঝে কৈলাশনাথ এর গর্ভগৃহ। গর্ভগৃহ কে কেন্দ্র করে পাথরের প্রদক্ষিণ পথ।তারই পাশে পাশে প্রাচীর গাত্রে 58 টি শিব মন্দির। প্রতিটি তে শিব এর এক এক রূপের প্রতিফলন।

প্রতিটি বিজোড় সংখ্যক মন্দির এ প্রাচীন শিল্পী র তুলির টানে ফুটে উঠেছে শিব পার্বতী র বিভিন্ন বিভঙ্গ। বহু যুগের ওপার হতে ফুটে ওঠা চিত্রমালায় আজও রয়ে গেছে রঙের রেশ।সময় তার সব চিন্হ টুকু মুছে দিতে পারেনি।আর জোড় সংখ্যক মন্দির গুলিতে ভাস্কর, বেলে পাথর কুঁদে ফুটিয়ে তুলেছেন শিব এর এক এক রূপ- কোথাও নৃত্যরত নটরাজ তো কোথাও সংহারক মহাকাল।

গর্ভগৃহ টির অভ্যন্তরে বিরাজ করছেন কৈলাশনাথ, লিঙ্গ রূপে। আর বহিরঙ্গে পল্লব রূপদক্ষরা তাঁদের মনের মাধুরী মিশায়ে সৃষ্টি করেছেন অবিস্মরণীয় ভাস্কর্য। তাঁদের কল্পনার মিশেল আর হাতের কারুশীলতাই কঠিন পাথরের বুকে জেগে উঠেছে একের পর এক কিন্নর কিন্নরী,ফুটে উঠেছে পৌরাণিক গাথা। সিংহ জেগেছে তার অমিত বিক্রমে। পাথর কেটে বেরিয়ে এসেছে বিপুলদেহী ঐরাবত। কোথাও শ্রীকৃষ্ণ তাঁর মোহনবেণু নিয়ে মগ্ন।কোথাও দত্তাত্রেয় তাঁর মহিমায় উদ্ভাসিত। শিল্পকলার সেই বিপুল আড়ম্বরের মাঝে দাঁড়িয়ে অভিভূত মন হারিয়ে ফেলে সময়ের হিসেব।

বহু শতাব্দী পর করে আজও একা দাঁড়িয়ে কৈলাশনাথ মন্দির এক গৌরবময় অতীতের স্মৃতি বুকে নিয়ে। মহাকালের স্পর্শে জীর্ণ হয়েছে তার শিল্প সম্পদ। বর্তমান বাড়িয়েছে তার হাত অতীত সম্পদের পুনরুদ্ধারে। আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া আপাতত দায়িত্বে এই মন্দির সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ এর। বিগত কালের সেই বিস্মৃত রূপদক্ষ রা আজও মুগ্ধতাই ভরিয়ে রেখেছেন আমাদের। এই মুগ্ধতা র ছোঁয়া পাক বহির্বিশ্ব। অংকর ভাট মন্দিরের আরো 500 বছর আগে গড়ে ওঠা এই মন্দির টি র প্যানেল এর সংখ্যা এবং সূক্ষ্ম ভাস্কর্য পেছনে ফেলে দিতে পারে অংকর ভাট কেও। দরকার শুধু পরিচিতির। উনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা র সুযোগ্য দাবীদার এই মন্দিরটি আরো পরিচিত হোক বিশ্বের দরবারে। তাহলে হয়তো পূর্ব পুরুষের ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s